June 27, 2022, 3:37 pm

গোয়ালন্দে দরিদ্র পরিবারের ঘরে জমজ তিন সন্তান “ঘর জুড়ে আলো, মন জুড়ে আধার”

সাংবাদিক বামঃ
  • পোস্ট হয়েছেঃ শনিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২১
  • 64 পড়া হয়েছেঃ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়ালন্দঃ অনেক পরিবার শত চেষ্টা করেও সন্তান নিতে পারেননা। তাদের সংসার জীবনে কষ্টই থেকে যায়। আবার কারো ঘরজুড়ে আলো ভরে গেলেও মনজুড়ে অন্ধকার থেকে যায়। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় এমন এক দিনমজুর পরিবারের ঘরে এক সঙ্গে তিন পুত্র সন্তান জন্ম নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। তাদের খাবার জোগান দেওয়া থেকে যতœ করা নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন পরিবারটি।

পরিবারটিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার দিনমজুর কিরন মুন্সির স্ত্রী ববিতা বেগম (২৮) ৪ নভেম্বর ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে একে একে তিনটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। পরিবারে নতুন সদস্যের আগামনে তারা সন্তানদের নাম রাখেন তামিম, তাসিন ও তানজিল। তার আগে তাদের ঘরে ৭ বছর বয়সী আরেকটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তিনটি শিশু সন্তানকে লালন পালন করতে যে খরচ হয় প্রতিদিন তিনি রোজগারও করতে পারেননা। নবজাতকদের আহারের জোগান দিতে গিয়ে রীতিমতো পরিবারটি ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে ইউএনও ব্যক্তিগতভাবে শিশুদের জন্য তিন মাসের খাবার ও নগদ টাকা দিয়েছেন।

গ্রামের স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, অনেকে হাজার চেষ্টা করেও একটি সন্তানের মুখ দেখতে পাননা। অথচ দরিদ্র দিনমজুর এই পরিবারটির ঘর আলোকিত করে এক সঙ্গে তিনটি পুত্র সন্তান হয়েছে। ঘর আলো থাকলেও তাদের মন জুড়ে অনেক কষ্ট বিরাজ করছে। এমনিতে তাদের তিন জনের সংসারে অভাবের শেষ নেই। তার ওপর এক সঙ্গে আরো তিন শিশু সন্তান নেওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আশেপাশের লোকজন যে যতটুকু পাড়ছে সহযোগিতা করছেন। কিন্তু এভাবে কত দিন চলবে। সরকার যদি ওদেরকে একটু সহযোগিতা করতো তাহলে পরিবারটি বেঁচে যেত।

আলাপকালে কিরন মুন্সি ও স্ত্রী ববিতা বেগম জানান, নদী ভাঙনে সহায়-সম্বল হারিয়ে তারা দৌলতদিয়া ইউনিয়নের শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ায় আশ্রয় নেন। সেখানে স্থানীয়ভাবে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিন শতাংশ জমি বাৎসরিক শনকরা নিয়ে কোনমতে মাথা গোজার ঠাই গড়ে তুলেন। জীবিকার তাগিদে কিরন মুন্সি কখনো হকারী, কখনো দিমজুরের কাজ করে কোনমতে ভরনপোশন করছেন।

গৃহবধু ববিতা বেগম বলেন, আল্লাহ আমার ফুটফুটে তিনটি পুত্র সন্তান দিয়ে ঘরে আলোকিত করেছেন। কিন্তু এই তিনটি সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে ধারদেনা করে আমরা খুব বিপদের মধ্যে আছি।

কিরণ মুন্সি বলেন, তিনটি সন্তানের জন্য প্রতিদিন একটি ল্যাকটোজেন ওয়ান ও মিসরি লাগে যার দাম প্রায় সাড়ে ৬০০ টাকা। এর ওপর আবার আমাদের নিজেদেরও তো পেট আছে। আমি দিনমজুরের কাজ করে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করি। যার কারণে প্রতিদিনই কারো না করো কাছ থেকে ধারদেনা করে ওদের খাবার যোগাতে হয়।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুল হক খান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে শনিবার দুপুরে তিন মাসের শিশু খাবার, নগদ পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে মুজিববর্ষের একটি ঘর দেওয়ার প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। এই শিশু হয়তো আগামীতে দেশ বরেণ্য মানুষ হয়ে উঠতে পারে। তিনি সমাজের বিত্তবানদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।

শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরোও সংবাদ...
Copyright 2022 | Mys-tv.com
Ghorbaree Wala - ghorbareewala. Ghorbaree Wala
themesba-lates1749691102