June 27, 2022, 3:37 pm

ঘূূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবঃ বৃষ্টিতে গোয়ালন্দে জনজীবন বিপর্যস্ত

সাংবাদিক বামঃ
  • পোস্ট হয়েছেঃ সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২১
  • 76 পড়া হয়েছেঃ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়ালন্দঃ ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে দুই দিন ধরে সারাদিন বৃষ্টি থাকায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খুবই প্রয়োজন বা জরুরি কাজ ছাড়া সহজে কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বৈরী আবহাওয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে দিনের বেলায় হেড লাইট জ¦ালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ইদ্রিস পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মালেক মন্ডল গোয়ালন্দ বাজারে এসেছেন ছাতা কিনতে। সারা বাজার ঘুরে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ পাওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়ছেন। এক-দুটি দোকান খোলা পেলেও দামের ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁর অভিযোগ। বৃষ্টির কারনে ছাতার চাহিদা বেশি থাকায় দোকানীর ছাতা প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কারনে দামও কিছু বেশিই নিচ্ছেন দোকানী।

আব্দুল মালেক মন্ডল বলেন, গতকাল রোববার ছিল তাঁর একমাত্র মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান। পূর্ব নির্ধারিত থাকায় দিনও পরিবর্তন করতে পারছিলেননা। সমাজের লোকজনের পাশাপাশি বর পক্ষের লোকজন মিলে প্রায় ৩০০ মানুষের আয়োজন ছিল। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে সারাদিন বৃষ্টি থাকায় দাওয়াতিদেরকে আপ্যায়ন করতে পড়েন মহা বিপাকে। অনেক কষ্ট করে রান্না শেষ হলেও মেহমানদের ঠিকমতো বসাতে পারছিলেননা। নিজের ও প্রতিবেশী এক বাড়ির বারান্দায় কয়েক দফা কয়েকজন করে বসিয়ে সম্পন্ন করেন। সোমবার ছেলের বাড়ি যেতে হবে। কিন্তু ছাতা না থাকায় যেতে কষ্ট হচ্ছে। তারপরও যেতে হবে। কিন্তু যে হারে বৃষ্টি নামছে, তাতে করে সবাই চরম বিপদের মধ্যে আছি।

এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দেখা যায়, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় চারপাশের পরিবেশ অনেকটা অন্ধকারাচ্ছন্ন। ছুটে চলা যানবাহনগুলো হেড জ¦ালিয়ে চলাচল করছে। প্রতিটি দূরপাল্লার পরিবহনসহ পণ্যবাহী গাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং রোগীবাহি এ্যাম্বুলেন্সও লাইট জ¦ালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থিত ডাক বাংলোর সামনে একটি এ্যাম্বুলেন্সের চাকা মহাসড়ক থেকে পাশের মাটিতে পড়ায় দেবে যায়। বৃষ্টির কারনে কাঁদা-মাটি হওয়ায় এ্যাম্বুলেন্সটি তিন ঘন্টার বেশি সময় ধরে আটকে আছে। পরে এ্যাম্বুলেন্স চালকসহ তাদের লোকজন আশপাশ এলাকা থেকে কিছু কাঠের পাটাতনের ব্যবস্থা করে চাকার নিচে দিয়ে গাড়িটি সড়কের ওপর তোলার ব্যবস্থা করেন।

রিক্সা চালক কদম আলী শেখ অভাবের কারণে বৃষ্টির মধ্যেও রিক্সা নিয়ে বের হয়েছেন। তার রেইনকোট না থাকায় পলিথিন মুড়ে তিনি রিক্সা নিয়ে পৌর শহরের জামতলা এলাকায় যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন।

কদম আলী শেখ বলেন, অনেকে বিপদে পড়েই বাড়ি থেকে বাইরে বের হচ্ছেন। আমার তো একদিন রিক্সা না চালালে সংসার চালানো কষ্টকর। তাই বৃষ্টিতে ভিজেই যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছি। নিজের তো রেইনকোট নাই, তাই একটা পলিথিন কিনে মুড়ি দিয়ে আছি। সকাল থেকে এ পর্যন্ত ২০০ টাকা রোজগার করেছি। আরো ৩০০ টাকা রোজগার হলেই বাড়ি ফিরে যাবো। কদম আলীর মতো আবার অনেক দিন মজুর বা শ্রমজীবি মানুষ উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে বের হয়েছেন।

শেয়ার করুনঃ

এই জাতীয় আরোও সংবাদ...
Copyright 2022 | Mys-tv.com
Ghorbaree Wala - ghorbareewala. Ghorbaree Wala
themesba-lates1749691102